ফেড কর্মকর্তার সতর্কতা

ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনে বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসায় দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) রিচমন্ড শাখার প্রেসিডেন্ট টম বারকিন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসায় দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতির সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) রিচমন্ড শাখার প্রেসিডেন্ট টম বারকিন। যদিও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে সামগ্রিকভাবে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাও দেখছেন শীর্ষ এ কর্মকর্তা। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি আঞ্চলিক ব্যাংক রয়েছে। এরই একটি হলো রিচমন্ড। শাখাপ্রধান টম বারকিন বলেন, ‘‌মার্কিনরা এখনো অবাধে ব্যয় করছেন। চাকরি ছাঁটাইয়ের হার নিম্নস্তরে রয়েছে। ভোক্তারাও উচ্চ মূল্যের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেছে। এতে ২০২৫ সালে প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ঝুঁকির তুলনায় উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও রয়ে গেছে।’

বারকিন বলেন, ‘‌এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে মজুরি ও পণ্য উৎপাদনের খরচ বেড়ে যেতে পারে। সাম্প্রতিক মুদ্রাস্ফীতির অভিজ্ঞতার কারণে ব্যবসায়ীরা তখন পণ্য ও সেবার মূল্য বাড়াতে পারেন। এতে অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরো বাড়বে।’

চলতি মাসে আবারো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে শুল্ক বাড়ানোর পাশাপাশি কর ও নিয়ন্ত্রণ বিধি শিথিলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এছাড়া অভিবাসন নীতি কঠোর করা ও অবৈধ অভিবাসীদের ব্যাপক হারে বহিষ্কার শুরুর ঘোষণাও দিয়েছেন।

তবে কিছু অর্থনীতিবিদ সতর্ক করেছেন, এ নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির উল্লম্ফন ঘটাতে পারে। ফেড চেয়ার জেরোম পাওয়েল গত মাসে বলেন, ‘‌কিছু ফেড কর্মকর্তা তাদের পূর্বাভাস প্রণয়নে ট্রাম্পের আসন্ন শাসনামলের সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়েছেন। তবে পূর্বাভাসগুলো খুবই ‘‌‍যদি-কিন্তু’র অনুমানের ভিত্তিতে করা হয়েছে।’

বারকিন জানান, ট্রাম্প কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তবে চূড়ান্ত পরিকল্পনা তৈরির সময় একটি দীর্ঘ আলোচনার প্রক্রিয়া চলবে বলে আশা করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘‌অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অপ্রত্যাশিতভাবে ধাক্কা খেলে নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষতি কিছুটা লাঘব করা যেতে পারে।’

গত শুক্রবার ফেড গভর্নর অ্যাড্রিয়ানা কুগলার বলেন, ‘‌ফেড কর্মকর্তাদের মধ্যে ট্রাম্পের নীতিগুলো নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বিশেষত তার (ট্রাম্প) প্রতিশ্রুত শুল্ক বাড়ানোর প্রভাব, অন্যান্য দেশ ও ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিভক্ত মতামত রয়েছে।’

কুগলার সাম্প্রতিক তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৫ সালে ধীরে ধীরে সুদহার কমানোর পক্ষে মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘‌অর্থনৈতিক বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো সাময়িক নাকি স্থায়ী তা আমাদের নিশ্চিত হতে হবে।’

ফেড গত মাসে সুদহার ৪ দশমিক ২৫ থেকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়েছে। তবে ২০২৫ ও ২০২৬ সালে সুদহার কমানোর পূর্বাভাস উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতির জন্য তাদের পূর্বাভাস বাড়ানো হয়েছে।

বর্তমানে ফেডের বেশির ভাগ কর্মকর্তা ২০২৫ সালে বছরে মাত্র অর্ধ শতাংশ সুদহার কমানোর পূর্বাভাস দিয়েছেন। যদিও গত সেপ্টেম্বরে ১ শতাংশ কমানোর পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল।

বারকিন বলেন, ‘অর্থনীতি যেভাবেই বিকশিত হোক না কেন ফেড একটি ভালো অবস্থানে রয়েছে। যদি কর্মসংস্থান ধাক্কা খায় বা মুদ্রাস্ফীতি পুনরায় আবির্ভূত হয়, আমাদের প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রস্তুতি রয়েছে।’

আরও